এলিজা কার্সন, হবেন মঙ্গল গ্রহে যাওয়া প্রথম নারী ।
মহাকাশ ও সৌরজগত্ স্রষ্টার অনন্য এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। জানা অজানা অসংখ্য রহস্য লুকিয়ে আছে এখানে। এই মহবিশ্ব শুধু নিখুঁত সৌন্দর্যের আধারই নয়, বরঞ্চ রহস্যময় তত্ত্ব ও তথ্য সমৃদ্ধ এক সীমাহীন সম্রাজ্য ।
অজানা কে জানার তীব্র আকাঙ্কা নিয়ে বিজ্ঞানের স্পর্শে মহাকাশ পানে নিরন্তর ছুটে চলা মানুষের মহাবিশ্ব,মহাকাশ,সৌরজগত, গ্রহ, নক্ষত্র ও অসংখ্য মহাজাগতিক বিষয় নিয়ে রহস্য উন্মোচন করতে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলশ্রুতিতে মহাকাশ নিয়ে গবেষণার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।
বিজ্ঞানীদের গবেষণা বলছে, পৃথিবী অদূর ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠবে। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে ওজোন স্তর ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে যার কারণে পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবী ধ্বংসের সম্মুখীন হলে মানব সভ্যতার নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপদ কোনো স্থানে মানব জাতির বিকাশে সবাই উদগ্রীব হয়ে উঠবে, সেটাই স্বাভাবিক এবং সংগত। সে ক্ষেত্রে মানুষের বিবেচনার প্রথম পছন্দ হতে পারে লাল গ্রহ সাদৃশ্য মঙ্গল।
এজন্যই ভবিষ্যতে মানব সভ্যতাকে নিরাপদ রাখার জন্য মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মঙ্গল গ্রহে উপনিবেশ স্থাপন করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, বর্তমান পৃথিবীর উপযোগী আবহাওয়া ও জলবায়ু বিবেচনায় সৌরজগতের সব থেকে কাঙ্ক্ষিত গ্রহ মঙ্গল। এজন্য মঙ্গল গ্রহ নিয়ে জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকেই সৌরজগতের এ লাল গ্রহে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের ক্রমাগত অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলে পাড়ি জমাতে যাচ্ছে আমাদের পৃথিবীর সপ্নবাজ এক ছোট্টো মেয়ে, এলিজা কার্সন। পরিকল্পনা অনুযায়ী এলিজা কার্সন, হবেন মঙ্গল গ্রহে যাওয়া প্রথম নারী ।
তাই আমি বিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষামূলক ব্লগে শেয়ার করবো এলিজা কার্সনের মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে। এলিজা কার্সন। আঠারো বয়সের এই মেয়েটি নাসার কনিষ্ঠতম সদস্য। সব কিছু ঠিক থাকলে এলিজা কার্সন হবে ২০৩৩ সালে মঙ্গল গ্রহ গিয়ে পৃথিবীতে আর ফিরে না আসার প্রথম মানুষ।
এলিজা কার্সন সিংগেল প্যারেন্ট হিসেবে বাবার কাছে বড় হয়েছে। সে জানে না কে তার মা। সাত বছর বয়সে বাবা তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন আলবামার একটি স্পেস ক্যাম্পে। সেই ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা তাকে এমনভাবে নাড়িয়ে দিলো যে তার ভাবনার জগতটাই বাকিসব শিশুদের থেকে তাকে আলাদা করে দেয়। এলিজার যখন নয় বছর বয়স তখন তার সঙ্গে দেখা হয় নাসা’র এক মহাকাশচারী সান্ড্রা ম্যাগনাসের সঙ্গে। এই নারী মহাকাশচারী তাকে জানিয়েছিলেন ছোটবেলাতেই তিনি মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। আর ছোট্ট এলিজা ও মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন বুনতে থাকে। মাত্র ১২ বছর বয়সে এলিজা সবচেয়ে কম বয়সী হয়ে আলবামা, কানাডার কুইবেক ও তুরস্কের ইজমিরে নাসার তিনটি ভিন্ন স্পেস ক্যাম্পে অংশ নেয়। মহাকাশের বেসিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন মিশন কিভাবে পরিচালিত হয়, তা আয়ত্তে নিয়েছে এলিজা । এছাড়া মহাকর্ষ-শূন্য স্থানে চলাচল করার পদ্ধতি, ভারহীন স্থানে থাকার উপায়ও শিখেছে সে। অর্জন করেছে বিশেষ মুহুর্তে জরুরী সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা।
এলিজা নিজে একটি রকেটও বানিয়েছে কারন রোবোটিকস বিষয়ে এলিজার জ্ঞানার্জনের বিষয়ে প্রথম থেকেই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এগিয়ে এসছে । এসব অনেক কারনেই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা থেকে তার ডাক দেওয়া হয় - ব্লুবেরি।
যেহেতু এলিজা কার্সন মঙ্গলে গেলে আর ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই তাই নাসার কাছে সে কোনো প্রকার যৌনতা, বিয়ে বা সন্তানধারণের নিষেধাজ্ঞাপত্রতে সাক্ষর করেছে। । যেন কোন মোহ তাকে তার স্বপ্ন হতে পিছু হটাতে না পারে। অফিসিয়ালি নাসা ১৮ বছরের আগে কাউকে নভোচারী হিসেবে আবেদন করার সুযোগ দেয় না। তবে এলিজার ক্ষেত্রে এ নিয়ম একটু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। প্রথম থেকেই প্রতিষ্ঠানটি এলিজাকে মানুষের ভবিষ্যৎ বাসস্থান মঙ্গলে অভিযানের জন্য শক্ত সমর্থ করে তৈরি করতে চেয়েছে। ২০৩৩ সালে যখন মঙ্গল গ্রহে প্রথমবার মানুষ পাঠানোর অভিযান শুরু হবে, তখন এলিজার বয়স হবে ৩২, যা একজন নভোচারীর জন্য উপযক্ত বয়স। ৩২ বছর পূর্ণ হলে এলিজা ২০৩৩ সালে পাড়ি জমাবে লালচে মরিচায় ঘেরা সম্পূর্ণ নতুন একটি পরিবেশে। যেখান থেকে তার ফিরে আসার বিষয়টা শতভাগ অনিশ্চত জেনেও এ বিষয়ে এলিজার কোন আগ্রহ নেই। তার স্বপ্নযাত্রার আনন্দের কাছে তা কিছু নয়। সে নিজেকে মঙ্গলের বাসিন্দা মনে করতে শুরু করেছে, আর সেভাবেই নিজেকে গড়ে তুলছে। তবে তার ইচ্ছে সে যদি কখনো পৃথিবীতে ফিরে আসে তবে সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চায়। আর যদি ফিরে না আসতে না পারে তবে যেন তার ত্যাগের জন্য মানুষ তাকে স্মরণ করে একজন গ্যালাক্সিযোদ্ধা হিসেবে।
এলিজা কার্সন জানে, সে হয়তোবা আর ফিরে আসবেনা পৃথিবীতে। আর মাত্র ১৪ বছর পরে একমাত্র নিঃসঙ্গ মানুষ হিসেবে বাকি জীবনটাই কাটিয়ে দিবে কোটি কোটি মাইল দূরের ক্ষীয়মাণ নীল নক্ষত্রের লোহার লালচে মরিচায় ঢাকা প্রচন্ড শীতল নিষ্প্রাণ এক গ্রহে। তবে এই কারনে মোটেও ভীত নয় এলিজা কার্সন। মানুষের স্বপ্নের বিশালতার কথা ভাবতেই অবাক লাগে ! আর এলিজা কার্সনের মহাকাশে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন যেন বিশালতাকেও হার মানায়।
প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ, আত্মবিশ্বাসী ও ক্ষুদে এ নভোচারী কিশোরী অন্যদের এই বলে অনুপ্রাণিত করে যে -
সর্বদা আপনি আপনার স্বপ্নগুলোকে অনুসরণ করুন এবং কাউকে এটি আপনার কাছ থেকে নিতে দেবেন না।


Leave a Comment